1. admin@shikkhasamachar.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের সুবর্ণজয়ন্তী আজ – শিক্ষা সমাচার

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : রবিবার, ৭ মার্চ, ২০২১
  • ২১৭ বার পঠিত

ঐতিহাসিক ৭ মার্চের সুবর্ণজয়ন্তী আজ। মুক্তিকামী বাঙালি জাতিকে মুক্তির বাণী শোনানোর দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশাল জনসমুদ্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিকামী বাঙালি জাতিকে শোনান ১৮ মিনিটের মুক্তির বাণী। সেদিন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লাখ লাখ জনতার উদ্দেশে মহান এই নেতা বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাাম। রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব, ইনশাল্লাহ’। বঙ্গবন্ধুর ১৮ মিনিটের ওই ভাষণ আজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও লাভ করেছে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী প্রদান করেছেন। একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি জাতি পেয়ে যায় স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা। এরপরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর এই বজ্রনিনাদে আসন্ন মহামুক্তির আনন্দে বাঙালি জাতি উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। যুগ যুগ ধরে শোষিত-বঞ্চিত বাঙালি ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যায় কাক্সিক্ষত মুক্তির লক্ষ্যে।

খ্যাতিমান শিক্ষক, লেখক ও সাংবাদিকসহ বরেণ্য আরও অনেক ব্যক্তি এবং রাজনৈতিক নেতাদের লেখা ও স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের আগের ও পরের বিভিন্ন ঘটনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের অধ্যাপক ইতিহাসবিদ ড. মুনতাসীর মামুন ‘বঙ্গবন্ধু কীভাবে আমাদের স্বাধীনতা এনেছিলেন’ গ্রন্থে লিখেছেন- ৭ মার্চের ভাষণের পরে ওই রাতেই বঙ্গবন্ধু পরিবারের সব সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে খাবার খেতে বসেন। খাবার টেবিলে তিনি বলেন, ‘এখন থেকে একসাথে দু’বেলা একত্রে খাব’। এ সময় বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, শেখ হাসিনা, ড. ওয়াজেদ মিয়া, শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা ও শেখ রাসেল উপস্থিত ছিলেন। সবাই একসঙ্গে বসে খাবার খাওয়ার কারণ ব্যাখা করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু গম্ভীর কণ্ঠে আরও বললেন, ‘আমার যা বলার ছিল আজকের জনসভায় তা প্রকাশ্যে বলে ফেলেছি। সরকার এখন আমাকে যে কোনো মুহূর্তে গ্রেপ্তার করতে পারে। সেজন্য আজ থেকে তোমরা প্রতিদিন দুবেলা আমার সঙ্গে খাবে।’ সেদিন থেকে ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত প্রতিদিন বঙ্গবন্ধু পুরো পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে খেয়েছেন।

১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ মার্চ বেলা ৩টা ২০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত হন। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। ময়দানজুড়ে স্লোগান ছিল ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা’। উপস্থিত জনতাকে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে।’ ১৮ মিনিটের সেই ভাষণ মুক্তিযুদ্ধে দারুণ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। আজও অনেকের কাছে তা অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে। প্রকৃতপক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। এর পরই মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর শুভক্ষণে ঐতিহাসিক এই ৭ মার্চ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

বঙ্গবন্ধুর ভাষণের আগে ৭ মার্চ সকাল ও আগের দিন ৬ মার্চ সারা দিন ও রাতে কী পরিস্থিতি ছিল ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর বাড়িটিতে, সে সম্পর্কে কথা বলেছেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠজন ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ। এ নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্যে কথা বলেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। তার কিছু অংশ তুলে ধরা হলো।

১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ মার্চ সকাল থেকেই ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে ভিড় জমাতে শুরু করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আন্দোলন এবং মানুষের আকাক্সক্ষা বিবেচনায় নিয়েই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ৩ মার্চ পল্টনে ছাত্রসমাবেশে ৭ মার্চ ভাষণ দেওয়ার ঘোষণা দেন। এরই মধ্যে একদিকে আন্দোলনের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার ব্যাপারে চাপ ছিল। সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণার দাবিতে ছাত্রনেতাদের একটা অংশ চাপ তৈরি করছিল। অন্যদিকে আলোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছিল। ফলে শেখ মুজিব ছাত্রনেতা থেকে শুরু করে জাতীয় নেতা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলেন।’

তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, ‘৭ মার্চ সকাল থেকেই ঢাকায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে ছিল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা এবং ছাত্রনেতাদের ভিড়। দুপুর ২টার দিকে আব্দুর রাজ্জাক এবং আমিসহ তরুণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধু তার বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিলেন জনসভার উদ্দেশে। তিনি বলেন, ৬ মার্চ রাতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং তাজউদ্দীন আহমেদসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। ভাষণ দিতে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় শেখ মুজিবকে তার স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বলেছিলেন, তুমি যা বিশ্বাস করো, তুমি তাই বলবে।’ বঙ্গবন্ধু জনসভাস্থলে গিয়ে বিশাল জনসমুদ্রে তিনি যা বিশ্বাস করতেন, তাই বলেছেন। আজ সেই ভাষণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে।

বঙ্গবন্ধুর জামাতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া তার স্মৃতিকথায় লেখেন, ‘ঐদিন বঙ্গবন্ধু তার বাসভবনের লাইব্রেরি কক্ষে তাজউদ্দীন আহমদ, এ এইচ এম কামারুজ্জামান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, খন্দকার মোশতাক আহমেদ, ড. কামাল হোসেনসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেন। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পর বঙ্গবন্ধু সবাইকে বলেন, ছাত্রজনতার দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন এবং বিকেলে রেসকোর্সে চার দফা দাবি পেশ করা হবে।’

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন রাজনৈতিক সভায় বক্তব্যে বলেন, ‘বাবা (শেখ মুজিববুর রহমান) যখন পায়চারি করেন তখন মা (শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব) বাবার পাশে মোড়ায় বসে পরামর্শ দেন- তুমি যা বিশ্বাস করো, তাই বলবে। ৭ মার্চের ভাষণ তিনি নিজের চিন্তা থেকেই দিয়েছিলেন। ভাষণটি লিখিত ছিল না।’

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। দিনটি এতদিন আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ভিন্ন ভিন্নভাবে পালন করলেও এবারই প্রথম জাতীয়ভাবে পালন করা হচ্ছে। গত বছরের ১৫ অক্টোবর দিনটিকে ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে পরিপত্র জারি করা হয়।

বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচি : ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালন উপলক্ষে আজ সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হবে। বিকাল তিনটায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেবেন সংস্কৃতি সচিব বদরুল আরেফীন। অনুষ্ঠানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার করা হবে এবং ডকুড্রামাসহ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে।

দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দলটি। সকাল ৯টায় ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে। এছাড়া আগামীকাল সোমবার বিকালে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন। এছাড়া সব জেলা-উপজেলায় নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের জন্য আলাদা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। যেখানে নবীন-প্রবীণ শিল্পী, রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠান হবে। যার মধ্যে রয়েছে শিশু-কিশোরসহ দেশের বিশিষ্ট আবৃত্তিকারদের অংশগ্রহণে আবৃত্তি অনুষ্ঠান, সংগীত শিল্পী ও নৃত্যশিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবন নিয়ে নাটক মঞ্চায়ন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ডকুমেন্টারি, চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে সব জেলায় বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন (বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, সংগীত ও নৃত্য)।

জাতীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংগতি রেখে সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদ্যাপন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে। এছাড়া ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের উদ্যোগে একটি স্যুভেনির শিট ও উদ্বোধনী খাম অবমুক্ত করা হবে। এছাড়া একটি বিশেষ সিলমোহর কেবল এ দিনের জন্য ব্যবহার করা হবে।

ঢাকায় অবস্থিত বিদেশি দূতাবাসগুলোর প্রতিনিধিরা এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর প্রতিনিধিরা যাতে অনলাইনে (ভার্চুয়ালি) জাতীয় অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ সব সরকারি-বেসরকারি টিভি চ্যানেল এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনলাইন প্লাটফর্মগুলোতে (ফেইসবুক, ইউটিউব, ওয়েবসাইট প্রভৃতি) একযোগে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
নিউজটি শেয়ার করুন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর