1. admin@shikkhasamachar.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন

স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ – শিক্ষাসমাচার

সমাচার ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৬ মার্চ, ২০২১
  • ২৭০ বার পঠিত

স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশ। ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস বাঙালি জাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়। এ বছর জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকীও। জাতির জন্য এক আনন্দঘন গৌরবের অনুভূতি।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের স্ফুলিঙ্গে উজ্জীবিত সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা। ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান আর দুই লাখ মা-বোনের ত্যাগ এবং কোটি বাঙালির আত্মনিবেদন ও সংগ্রামের গৌরবগাঁথার ইতিহাস, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস।

পলাশীর প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথ বেয়ে উপমহাদেশের জনগণ পেয়েছিল পাকিস্তান ও ভারত নামক দুটি রাষ্ট্র। এরপর শুরু হয় পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক বাঙালিদের নতুন করে শোষণ ও পরাধীনতার শৃঙ্খলে বেঁধে রাখার ষড়যন্ত্র।

পাকিস্তানী হানাদারদের শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় বাঙালি জাতি। স্বাধীনতার জন্য দৃঢ় প্রত্যয়ে দীপ্ত বাঙালির সামনে কোনো মরণাস্ত্র বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। বাঙালি হয়ে ওঠে সংগ্রাম, আন্দোলন আর স্বাধিকারে জাগরিত মহান স্বাধীনতা অর্জনের অনন্য উজ্জ্বলতার প্রতীক। বাঙালি জাতিকে মুক্তির এই মহামন্ত্রে উজ্জীবিত করে ধাপে ধাপে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পথে এগিয়ে নিয়ে যান ইতিহাসের মহানায়ক, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ’৪৮ এ বাংলা ভাষার দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের পথ বেয়ে ’৫২ এর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়লাভ, ’৫৬-এর সংবিধান প্রণয়ন আন্দোলন, ’৫৮-এর মার্শাল ’ল বিরোধী আন্দোলন, ’৬২-এর শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলন, ’৬৬-এর বাঙালির মুক্তির সনদ ৬-দফা আন্দোলন, ৬৮-এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ’৬৯-এর রক্তঝরা গণঅভ্যুত্থান, ৬-দফা ভিত্তিক ’৭০-এর ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ খ্যাত কালজয়ী ঐতিহাসিক ভাষণ ও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন প্রভূত ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের চূড়ান্ত লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওঠে বাঙালি জাতি।

১৯৭১-এর ২৫ শে মার্চ কালো রাত্রিতে পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির উপর নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করলে ২৬ শে মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সর্বস্তরের বাঙালী ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে অস্থায়ী সরকারের অধীনে দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বিশ্বমানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের।

বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের এই ধারাবাহিক সংগ্রামে জীবনের অধিকাংশ সময় জেলে কাটিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দুই বার ফাঁসি কাষ্ঠের মুখোমুখি হয়েছেন, অসংখ্য মিথ্যা মামলায় অসংখ্যবার কারাবরণ করার পরও স্বাধীনতা অর্জনের প্রশ্নে আপোস করেননি। তিনি বাংলার মানুষকে দিয়েছেন একটি স্বাধীন ভূখনণ্ড, একটি পতাকা, একটি মানচিত্র, জাতীয় সংগীত, সংবিধান, বিশ্বের বুকে গর্বিত পরিচয়।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ‘মুজিব বর্ষ’ ও ‘স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী’ উযাপন উপলক্ষে সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মদিন ১৭ই মার্চ ২০২১ হতে মহান স্বাধীনতা দিবস ২৬শে মার্চ ২০২১ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে দশ দিনব্যাপী কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। স্কুল-কলেজের কর্মসূচিগুলোর মধ্যে আছে, ২৬ মার্চ সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা অফিসের ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে। পতাকা বিধি অনুসারে সঠিক মাপ ও রঙের পতাকা উত্তোলন করতে বলা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা অফিসগুলোকে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের ব্যবস্থা করতে হবে। এ দিন সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা অফিস ভবনে আলোকসজ্জা করতে বলা হয়েছে। এছাড়া দিবসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা অফিস ভবনে সাজাতে হবে।

এছাড়া দিবসটি উদযাপনে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক নেতৃত্ব ও সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশের উন্নয়ন’ বিষয়ে অনলাইনভিত্তিক বা ভার্চুয়াল মাধ্যমে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা অফিসগুলোকে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্মরণিকা প্রকাশ ইত্যাদি কর্মসূচি প্রতিষ্ঠানের নিজ উদ্যোগে অনলাইনে আয়োজন করতে হবে। দিবসটি উদযাপনে জাতীয় পর্যায়ের রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনা অনুসারে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
শেয়ার করুন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর