1. admin@shikkhasamachar.com : admin :
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:২৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ব্যক্তিত্বহীন শিক্ষক : দায় কার ? শিক্ষাসমাচার নলছিটিতে প্রতিবন্ধীর মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ – শিক্ষাসমাচার নেত্রকোণা সীমান্তে মোটরসাইকেল ও ভারতীয় মদ জব্দ আটক ২ ভান্ডারিয়ায় জনপ্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় শেষে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন সাংসদ আনোয়ার হোসেন মঞ্জু জেলা প্রশাসনের দেয়া ফ্রি মাস্ক শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি, অভিভাবকদের অসন্তোষ কুমিল্লায় এসএসসি ১৪ ও এইচএসসি ১৬ ব্যাচের বন্ধুদের মিলন মেলা অনুষ্ঠিত – শিক্ষাসমাচার পরিকল্পিত ভাবে কাজ করে নতুন প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করলে বেকারত্ব দূর হবে- আনোয়ার হোসেন মঞ্জু কাঠালিয়া পশ্চিম ছিটকি স্কুল অ্যান্ড কলেজের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ – শিক্ষাসমাচার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের টিকা গ্রহণ বাধ্যতামূলক – শিক্ষাসমাচার বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন বিএম কলেজ শাখার উদ্যোগে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত-শিক্ষাসমাচার

প্রকল্পের পর প্রকল্প অনুমোদন হলেও নিরক্ষরমুক্ত হয়নি দেশ – শিক্ষাসমাচার

সমাচার ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : বুধবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৫৪ বার পঠিত

নির্বাচনী ইশতেহারে দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগেও একই কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু নিরক্ষরমুক্ত করতে যে রকম পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা দরকার তা করতে পারেনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো। এর ফলে শুধু প্রকল্প হলেও নিরক্ষরমুক্ত করা যায়নি দেশকে।

২০১৯ সালে সরকারি হিসাবে সাক্ষরতার হার ৭৩ দশমিক ৯ শতাংশ। আর বেসরকারি হিসাবে এই হার প্রায় ৫৭ শতাংশ। ২০২১ সালে এসে পরিসংখ্যান ব্যুরোর রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশে সাক্ষরতার হার ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ। বেসরকারি হিসাবে ৫৮ শতাংশ। সরকারি হিসাবে দেশে এখনো ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ জনগোষ্ঠী নিরক্ষর। ফলে কবে নাগাদ দেশ নিরক্ষরমুক্ত হতে পারে তা বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোরের কাগজ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য।

প্রতিবেদনে আরও জানা যায় এ রকম বাস্তবতায় আজ বুধবার দেশে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘মানবকেন্দ্রিক পুনরুদ্ধারের জন্য সাক্ষরতা : ডিজিটাল বিভাজন সংকীর্ণ’। দিবসটি উপলক্ষে গত সোমবার সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, সরকারি পরিসংখ্যানে প্রতি বছরই বাড়ছে সাক্ষরতার হার। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের চেয়ে এ হার আরো প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭৪ দশমিক ৭ শতাংশ। সে হিসাবে দেশে এখনো মোট জনসংখ্যার ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ নিরক্ষর রয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, সংখ্যার হিসেবে দেশে এখনো ৩ কোটি ৪৫ লাখ লোক নিরক্ষর। বিপুল পরিমাণ এই জনগোষ্ঠীকে সাক্ষরজ্ঞান দিতে সরকার উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মাধ্যমে ‘মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথমপর্যায়ে ১৩৪টি উপজেলায় ৩৯ হাজার ৩১১টি শিখন কেন্দ্রের মাধ্যমে ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ৪৪১ জন নিরক্ষরকে সাক্ষরজ্ঞান দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে ৬০টি উপজেলায় ৩৫ হাজার শিখন কেন্দ্রের মাধ্যমে ২১ লাখ নিরক্ষর নারী-পুরুষকে সাক্ষরতাজ্ঞান দান কার্যক্রম বাস্তবায়নের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। কোভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই শিখনকেন্দ্রগুলো চালু করা হবে।

জানতে চাইলে গণসাক্ষরতা অভিযানের কে এম এনামুল হক বলেন, প্রতিপাদ্য অনুযায়ী সাক্ষরতা হার বাড়তে হলে ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি বাড়তে হবে। দেশের সব ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্রডব্র্যান্ড ইন্টারনেট থাকায় সেখান থেকে সংযোগ নিয়ে এ কাজ অনায়াসেই করা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক সংজ্ঞানুযায়ী, সাক্ষরতা হচ্ছে পড়া, অনুধাবন করা, মৌখিকভাবে এবং লেখার বিভিন্ন পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করা, যোগাযোগ স্থাপন করা এবং গণনা করার দক্ষতা। এটি একটি ধারাবাহিক শিখনপ্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নিজস্ব বলয় এবং বৃহত্তর সমাজের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের জন্য ক্ষমতা ও জ্ঞানের ভিত্তি তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ সাক্ষরতা বলতে লিখতে, পড়তে, গণনা করতে ও যোগাযোগ স্থাপন করার সক্ষমতাকে বোঝানো হয়। সাক্ষরতাসম্পন্ন একজন ব্যক্তি বাংলাদেশের পঞ্চম শ্রেণি পাস করা শিক্ষার্থীর সমমানের হতে হবে বলে মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে ইউনেস্কো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এবারের সাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্য কোভিড সংকট অভূতপূর্বভাবে শিশু, যুবক এবং প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষাকে ব্যাহত করেছে। বিদ্যমান বৈষম্যকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী সংকটের সময়ে সাক্ষরতা শেখার সুযোগগুলো সমানভাবে বিতরণ করা যায়নি। দূরবর্তী শিক্ষার দ্রুত পরিবর্তন, সংযোগ, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তির সঙ্গে জড়িত থাকার ক্ষমতা, সেই সঙ্গে বিদ্যুতের মতো অন্যান্য পরিষেবায় বৈষম্যের ক্ষেত্রে স্থায়ী ডিজিটাল বিভাজনকেও তুলে ধরে, যা সীমিতভাবে শিক্ষার বিকল্প রয়েছে। অক্ষরজ্ঞানহীন যুবক এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রয়োজনীয় সাক্ষরতা এবং ডিজিটাল দক্ষতার পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপের ওপর বিশেষ মনোযোগ দিয়ে, সাক্ষরতা একটি মানবকেন্দ্রিক পুনরুদ্ধারের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরিতে কীভাবে অবদান রাখতে পারে তা অন্বেষণ করবে। এটি প্রযুক্তি-সমর্থিত সাক্ষরতা শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং অর্থবহ করে তোলে যা কাউকে পিছনে ফেলে না। এটি করার মাধ্যমে, চলতি বছরের মহামারির প্রেক্ষাপটে এবং এর বাইরে ভবিষ্যতের সাক্ষরতা শিক্ষা এবং শেখার পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ হবে।

সাক্ষরতার হার বাড়ানো নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ থাকলেও সরকার অনেকটাই নির্বিকার। সর্বশেষ ২০১৪ সালে সাক্ষরতা নিয়ে সব প্রকল্পই শেষ হয়। এরপর ওই বছরের শেষের দিকে ‘মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪ জেলা)’ নামে নতুন একটি প্রকল্প শুরু হয়। যদিও এই প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা দেয়ার কথা ছিল। এজন্য প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু দক্ষতাকে বাদ দিয়ে ১৫-৪৫ বছর বয়সি ৪৫ লাখ নিরক্ষরকে সাক্ষরতা প্রদানে শুধু ৪৫২ কোটি ৫৮ লাখ টাকার প্রকল্প পাস হয়। আর এই প্রকল্প ২০১৮ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ওই বছরের ডিসেম্বরে মূলত কাজ শুরু হয়। গত ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত একটি ছয় মাসের কোর্স শেষ হয়েছে। আগামী নভেম্বর থেকে পরবর্তী ছয় মাসের ব্যাচ শুরু হবে। এই কাজটি মূলত এনজিওদের দিয়ে করানো হচ্ছে।

কিন্তু নামকরা এনজিওদের কাজ না দিয়ে ভুঁইফোড় ও কাগজে-কলমে নাম থাকা এনজিওদের আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে কাজ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রকল্পটি মূলত ব্যর্থ প্রকল্পে পরিণত হয়েছে। এখন শুধু টাকা খরচের মহোৎসব চলছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভুলের ওপরই চলছে সাক্ষরতার প্রকল্প। কারণ ১৫-৪৫ বছর বয়সি যেসব ব্যক্তি আছে তারা কোনো না কোনো কাজের সঙ্গে জড়িত। প্রতিদিন দিনমজুরি দিলেও কমপক্ষে ৫০০ টাকা আয় করে। তাহলে তারা কেন তাদের পেশা বাদ দিয়ে সাক্ষরজ্ঞান নিতে আসবে? যদি এই প্রকল্পের সঙ্গে দক্ষতার বিষয়টি যোগ থাকত তাহলে কেউ কেউ আগ্রহী হতো।

তবে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো সূত্র জানায়, শিগগিরই ‘নন-ফরমাল এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’ নামে একটি প্রোগ্রাম আসছে। সেখানে ১৫-৫০ বছর বয়সিদের শিক্ষা দেয়া যাবে। যাদের মধ্যে ১৫ লাখকে দক্ষতা ও ৫০ লাখকে বয়স্ক শিক্ষা দেয়া হবে। এছাড়া এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে ঝরে যাওয়া আরো ১০ লাখ শিশুকে শিক্ষা প্রদান করা হবে। এছাড়া ৫০০ উপজেলায় ৫০০ আইসিটি বেজড কমিউনিটি লার্নিং সেন্টার নির্মিত হবে। ৬৪ জেলায় ‘জীবিকায়ন দক্ষতা’ নামের একটি প্রকল্পও হাতে নেয়া হচ্ছে।
শেয়ার করুন

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর